জলপীঠ
প্রদীপ কুমার সেনগুপ্ত
আমরা কি জলকে জানি? আমাদের দৈনন্দিন যাপনের মধ্যে জল অপরিহার্য, কিন্তু ভাবনার মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদের অবস্থান কতটুকু? আমরা যে জলকে ভালবাসি না তার প্রমাণ পদে পদে। শুধু অপচয় বা দূষণ নয় আমরা জলকে অবহেলা করি, তাকে আমাদের দৈনন্দিন যাপনের মধ্যে শুধু ব্যবহার করি, ভালবাসি না।
ভবিষ্যতের শহরগুলো জলনির্ভর হয়ে উঠবে-কিন্তু সেই নির্ভরতা টেকসই হবে কিনা, সেটাই প্রশ্ন।
মহানগরগুলিতে জলের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। কলকাতা, মুম্বই, দিল্লি, কায়রো, কেপ টাউন, লস অ্যাঞ্জেলেস- সব শহরই অভিন্ন সংকটের মুখোমুখি: বর্ধিত জনসংখ্যা, সীমিত উৎস এবং দূষণ।
আগামী দিনের নগর পরিকল্পনায় 'Urban Hydrology' হবে এক স্বাধীন শাখা, যেখানে জল সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্যজল পরিশোধন, নিকাশি এবং শহরের জল-চক্রকে একত্রে দেখা হবে। Blue-Green Cities- এই নতুন ধারণা অনুযায়ী শহরের জলনালী, পার্ক, ছাদবাগান এবং জলাশয়- সব মিলেই হবে এক জীবন্ত জলচক্রের অংশ।
প্রযুক্তি, রাজনীতি, অর্থনীতি- সবই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু জলের ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে মানবচেতনার পরিবর্তনের ওপর। যে সভ্যতা জলকে কেবল সম্পদ হিসেবে দেখেছে, তাকে শিখতে হবে জলকে সহচর হিসেবে দেখা। জল- যা আকাশ থেকে ঝরে পড়ে, মাটির তৃষ্ণা মেটায়, নদী হয়ে গেয়ে ওঠে জীবনের গান- সে জলকে যদি মানুষ শ্রদ্ধা করতে শেখে, তবেই তার ভবিষ্যৎ নিরাপদ। আজ পৃথিবীর বহু দেশে শুরু হয়েছে এক নতুন সাংস্কৃতিক আন্দোলন- Water Literacy।
শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাস্তব প্রয়োগ, যা জল সাক্ষরতার মূল উদ্দেশ্য। জলকে ভালবাসতে শেখাবে 'জলপীঠ'।
লেখক পরিচিতি :
জন্ম ১৯৪৬। পেশায় ভূতত্ত্ববিদ ও জলবিজ্ঞানী, দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ও সেচব্যবস্থার গবেষণায় যুক্ত। বৈজ্ঞানিক ও জনপ্রিয় বিজ্ঞান রচনার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য পপ-আপ বই নির্মাণে তিনি বিশেষ পরিচিত। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানভিত্তিক সাহিত্যচর্চার এক নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। শিক্ষামূলক তথ্যচিত্র নির্মাণেও কাজ করেছেন। তাঁর লেখায় ইতিহাস, প্রকৃতি ও মানুষের গল্প মিলেমিশে যায়।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি