শহরের উষ্ণতম দিনে
জয়জিৎ লাহিড়ী
শুভদীপ ভট্টাচার্য চিত্রিত
ক্রমে বরফ হাত রাখে মাথার চুলে। চশমার কাচ পুরু হয়। তাতে বাষ্প জমে ওঠে। বয়স বেড়ে যায় ক্রমাগত। এই হতভাগ্য শহরের হাওয়াই আড্ডা থেকে যে বিমানগুলি ছাড়ে সেগুলির যাত্রাপথ শুধুই একমুখী। যারা যায় তারা ফেরার জন্যে যায় না। স্তব্ধ কৃষ্ণচূড়া মূক হয় ক্রমশ। তারপর শুকিয়ে যায় একদিন। মৃত শহরের গরম বাতাস ফিসফিস করে বলে যায় "ভুল গান লিখেছিলে তুমি, ভুল মানুষদের জন্য"। ১৯৯২-৯৩ সাল। সুব্রত তখনও চন্দ্রবিন্ধুর তৎকালীন লাইন আপের সঙ্গে স্টেজে পারফর্ম করছে। এদিকে নাকতলার বাড়িতে গৌতম-সঙ্গও চলছে সমানতালে। স্বাদবদল ঘটছে সঙ্গীত, সখ্য ও সন্ধ্যার। কোথাও কোথাও মুখোশ খসে পড়ছে কারোর।
গত শতাব্দীর ৭০-৮০-৯০ এর দশকে কলকাতা শহরে কিশোর থেকে যুবক হয়ে ওঠা এক গড়বাঙালির স্মৃতিকথার টুকরো। ব্যক্তির মূল্য কিছু নেই শুধু আখ্যানগুলির ভাঁজে ভাঁজে ঢুকে পড়া সময়ের গুঁড়োগুলি সামান্য মনোযোগ দাবি করে। যাদের মনের কথা ভেবে লেখা হয়েছিল গান, সেইসব প্রবাসী বন্ধুরা আস্তে আস্তে বিদেশি। যে সব বিষণ্ণ পাইলট তাদের নিয়ে শীতার্ত নিষ্পত্র শহরগুলোতে পাড়ি দিল, তারা আর ফিরলেন না। গোটা নব্বই দশক ধরে খালি হতে থাকল শহরের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পল্লীগুলি। বন্ধুরা ক্রমাগত হারিয়ে ফেলতে থাকল যৌথ সখ্যের উজ্জ্বল দিনগুলি। প্রথম প্রথম চিঠি, ই-মেল, লং ডিস্ট্যান্স কল- কত না আকুতি ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকার। ধীরে ধীরে ফিকে হতে থাকে সব। অপটিক ফাইবার ঢেকে যায় সময়ের নিষ্প্রাণ নিঃশব্দ তুষারপাতে।
-------
লেখক পরিচিতি :
জন্ম, ৩০ নভেম্বর ১৯৬৭। পেশায় সরকারি আধিকারিক, নেশায় লেখক। মূল পরিচিতি বাংলা ব্যান্ড 'গড়ের মাঠ' এর গীতিকার হিসেবে। প্রথম জীবনে দৈনিক কাগজে সাংবাদিকতা ও বিজ্ঞাপনের কপিরাইটারের কাজ করেছেন। ১৯৯৪ থেকে সরকারি চাকরিতে থিতু। পড়াশুনো হেয়ার স্কুল ও প্রেসিডেন্সি কলেজে। ভালবাসেন বেড়াতে ও আড্ডা দিতে। লিখেছেন অল্প কিছু গদ্য, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। ছোটদের জন্য লেখা নভেলা 'শিকড়ে লাগা মাটি'। অনুবাদ গ্রন্থ 'পুরনো তোরঙ্গ'। গীতিকবিতার সঙ্গে আপাতত হাত ধরাধরি করে চলেছে তাঁর ক্ষিপ্র, নির্মেদ বাংলা গদ্য।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি