ভোজেরহাটে ভেলভেলেটা
দামু মুখোপাধ্যায়
ছবি - শুভেন্দু সরকার
ফাটা কপাল আর ফুটো পকেট সম্বল। টেক্কা ফেলার মুরোদ নেই ট্যাঁকের। রোববার খাসির দোকানে লাইন দিতে তাকে দেখা যায়নি কোনও দিন। তবে হ্যাঁ, খাবারের কথা শুনে কান খাড়া হয়, জিভ লকলকিয়ে ওঠে, মন উসখুসও করে বটে। এসব শুনে আবার কেউ তাকে লোভী ভেবে বসলে তার বুদ্ধিসুদ্ধির খামতি আছে বলতে হয়। খাওয়াদাওয়া নিয়ে খামোখা বারফট্টাই তার ধাতে সয় না মোটে। এই যে বাজারে ঘুরঘুর করে ফেলে দেওয়া সবজি, মাংসের ছাঁট, ফাটা ডিম আর বাসি পাউরুটির সন্ধান করা, সেজন্য মাথা খাটাতে হয় না কি! শুধু কি তাই? কোন ফলের দানা গুঁড়িয়ে খাস্তা বড়া ভেজে তোলা যায়, কোন আনাজের খোসা থেকে মোলায়েম ভর্তা পাওয়া যায়, বা দুধের চাঁছি চেটে কেন হ্যাঁচ্চো হাঁকতে হয়- এসব বেফালতু তত্ত্বতালাশ তার দিমাগের খুঞ্চিপোশেই জমা রয়েছে। কয়লাগুঁড়োর ধুলোঝড় ওঠা রেল সাইডিং হোক বা এঁদো গ্রামের অচিন রুখু মেঠোপথ, মজে যাওয়া খাল বেয়ে ছুটে আসা ভ্যাপসা বাতাস শুঁকে সে-ই দিতে পারে দুর্লভ খানা খাজানার সঠিক হদিশ। নিন্দুকে বলে, বিধি বাম বা ডান যাইই হোক না কেন ভোজেরহাটে ইতিউতি উঁকিঝুঁকি মারা ভেলভেলেকে সমানে আস্কারা দিয়ে চলেছেন অন্তর্যামী খাদ্যবিধাতা। তাঁর মতিগতি খুব শিগগিরি পালটাবে বলেও মনে হচ্ছে না।
--------------
লেখক পরিচিতি :
পৃথিবীর আলো দেখা ইস্তক কলকাতার বাসিন্দা। শিক্ষা-দীক্ষার খতিয়ান পেশ করে ঘোরতর বিড়ম্বনার সম্মুখিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তা আপাতত উহ্য। রোজগারের ধান্দায় নানান বিদঘুটে পেশায় নাজেহাল হওয়ার পরে মধ্যবয়েসে চাকরিজীবনে কিছুটা ধাতস্থ হওয়ার সুযোগ হয়। নোলা-সর্বস্ব জীবন। পাকযন্ত্র চালু রাখা বাদে আরও বেশ কিছু বদভ্যাস সযত্নে লালিত। হকেনকে খুন্তিবাজিতে সহবাসীদের যথাসম্ভব নাকাল করে তৃপ্তিলাভ হয়। ইনসমনিয়ার খাতিরে রাত জেগে নাগালে আসা সব রকম বই-পত্তর ঘাঁটাঘাঁটি করার বাতিক রয়েছে।
দীর্ঘ অনভ্যাসের ফলে তাতে হাঁফ ধরলে তল্পিতল্পা গুটিয়ে নিরুদ্দেশ হওয়ার কুমতলব হামেশাই প্রেরণা দেয় লেখালিখির। যদিও লেখালেখির বাতিক কোনওকালেই বিশেষ ছিল না, শেষে দায়ে পড়ে এপথে পা বাড়ানো। সে সমস্ত হাবিজাবি যখন পাঠকের লাই পেয়ে দু'মলাটের ভিতর ব্যবস্থা হল, তখন ইষ্টনাম জপ করা একমাত্র উপায়।
আগের বই - খ্যাটন সঙ্গী, পাহাড়ে আহারে
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি