হা্রিয়ে যাওয়া গানের খাতা
যশোধরা রায়চৌধুরী
সৌরীশ মিত্র চিত্রিত
আত্মজৈবনিক গদ্য অথবা স্মৃতিকথা অথবা ষাট দশকের দক্ষিণ কলকাতার মেয়েবেলার যৌথ যাপনের দিকফলক এই বই। জ্বলে ওঠা কাঠের উনুন, পিঠেপুলির স্বরে বেজে ওঠা এসরাজ, আছে এক রেওয়াজের মধ্যে অন্য সরগমের হাঁটাচলা। ছোটবেলার গল্পে দাপাদাপির জন্য আছে এত বড় এক চৌবাচ্চা, আছে ছাদ ডিঙিয়ে উড়ে যাওয়া ছুঁচোবাজি, আছে সেলাই কলের গুঞ্জরন। শীতে বঙ্গ সংস্কৃতি সম্মেলন, জ্বর নিয়ে আসা উপপাদ্যের রাত, সঙ্গতে খল-নুড়ি মিক্সচার।
আছে এক সিনেমা পাড়া। উত্তরা পূরবী উজ্জ্বলা, আছে নাইট শো। আছে টিকিট ব্ল্যাকার, আছে আশারারদের আলো। আছে ম্যানহোল আর জলজমা এক ছপাত ছপাত কলকাতা। সেসব দিনের ছবিতে হইহই করে ঢুকে পড়েছে রিকশা আর ছাপাশাড়ি। এই ভাবেই স্কুল পেরিয়ে কলেজ, এসেছে কবিতা লেখা। হেঁটে গেছে কত্ত কিছু। বড় হওয়ায় রাস্তায় চোখে পড়ে প্রতাপ মঞ্চে বারবধূর পোস্টার, অসভ্য গান, নারীমুক্তির বাতাসে ঢেউ তুলে ম্যাডোনা, আছে থাম সিঁড়ি ক্যান্টিনে মোড়া প্রেসিডেন্সি কলেজ। অচ্যুত মন্ডল বনাম সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রাতিষ্ঠানিক লড়াই। নকশাল শব্দে ত্রস্ত সময়ের জলৌকা। সেসবকে দুহৃদ ভাবনার কোনও প্রয়োজন নেই কারণ বাতাসে গুনগুন এসেছে ফাগুন। তাই গোলাপও হাজির কাঁটা নিয়ে, প্রথম চুমু ও ব্রেকাপ। সত্তরের দশকের বেড়ে ওঠার রৌদ্রমথিত দিনদুপুর আশি দশকের হেঁটে যাওয়ার মাখোমাখো নস্টালজিয়া থেকে নব্বইয়ের ধামাকেদার গোলোকায়ন অব্দি বিস্তারিত এই পিছুফিরেদেখাগুলি। একার অথবা অনেকের। যার সুর রয়ে গেল হারিয়ে যাওয়া কতগুলি গানের খাতায়। যা আর গাওয়া হয়ে উঠবে না কোনোদিন।
-------
লেখক পরিচিতি :
জন্ম কলকাতায় ১৯৬৫। কবি হিসেবে প্রাথমিক পরিচিতি পান ১৯৯০ এর দশকে।
গদ্যকার হিসেবে লিখেছেন কবিতা বিষয়ক গদ্য, নারীবাদী লেখা, গল্প উপন্যাস ও স্মৃতিচর্চা। প্রতিদিনের জীবন তাঁর অনুধ্যানের বিষয়। গোলোকায়ন উত্তর পণ্যসংহিতা (১৯৯৬) কাব্যগ্রন্থের নতুন ভাষার কবিতার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে আলোচিত ছিলেন। নিয়মিত অনুবাদ করেন ফরাসি ভাষা থেকে।
১৯৯৮ সালে পিশাচিনীকাব্য গ্রন্থের জন্য পান কৃত্তিবাস পুরস্কার। গল্প বা গদ্য বইয়ের কয়েকটি উল্লেখ্য নাম, খণ্ডিতার বিশ্বদর্শন, লেডিজ কম্পার্টমেন্ট, ঊর্ণনাভ, স্রোত।
শেষতম কাব্যগ্রন্থের নাম পীড়াসমূহ।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি