স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ শাড়ি দিয়ে ঘেরা
ঝর্ণা বসু হালদার
উত্তাল উনিশশো একাত্তর। স্বাধীনতার অপরদিকে গভীর অনিশ্চয়তার অমানিশা, গাঢ় অন্ধকার। অর্বাচীন র্যাডক্লিফের খোঁচায় কোটি কোটি মানুষের ভাগ্যলিপি অথৈ জলে। ধুকতে ধুকতে এক সময় বন্ধ হয়ে যায় বাগেরহাট উইভিং ইউনিয়ন টেক্সটাইল মিল। দেশ ছেয়ে যায় পাকিস্তানে তৈরি হওয়া দুইরঙা গুলিস্তান শাড়িতে। পাবনার তাঁতিরা দেশান্তরী হয়ে কলোনি গড়ছেন গঙ্গারামপুরে।
নারীর জীবনের ঠিকানা বদলায়, শুধু বদলায়। রাষ্ট্রবিপ্লবে মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত। তবু জীবনের প্রতি মমতায় উদ্বাস্তু নারী খড়কুটো ধরে বাঁচার আশাটুকু জিইয়ে রাখে। সে যাত্রাপথ দীর্ঘ। বাসাবাটি, কালকের পুকুরের পাড়, কবরখানা রোড, জয়ার বটতলা পেরিয়ে ন্যারোগেজ লাইন চলে যায় রূপসা স্টেশনে। তার পর কত নদী, কত বন্ধুর পথ! বাক্সোপ্যাটরায় জমিয়ে রাখা শাড়িতে লেগে থাকে ঠাম্মার ক্ষার গোলা জলের গন্ধ। বাবার সাইকেলের পিছনে গাট বাঁধা ধুতি, থান, রঙিন শাড়িতে কোলাহলমুখর আনন্দময় সেই বাড়ির মায়া।
হিংসাপীড়িত প্রাণ, স্বল্প দৈর্ঘ্যের কাপড়ের মতো। শাড়ি তাকে ঢাকতে পারে না। উদ্যত পাকিস্তানি রাইফেলের পাশে তাই পড়ে থাকে পাকিস্তানি গুলিস্তান শাড়ি। গঙ্গারামপুরে প্রেমাস্পদ সন্তানের জন্মের পর প্রথম উপহার দেন রেশনের দোকানের জনতা শাড়ি। ধনেখালি শাড়িতে লেগে থাকে অসময়ে চলে যেতে বাধ্য হওয়া সন্তানের স্পর্শ। শাড়ি হয়ে ওঠে নিষ্ঠুর চক্রান্তের হাতিয়ার। জীবনের পথ দ্রৌপদীর শাড়ির মতো অশেষ, অলৌকিক।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি