আবহমান প্রকৃতি পড়ুয়ার দপ্তর
জীবন সর্দার
"শহর থেকে দূরে যারা থাকে, যার মনে প্রকৃতি-পড়ুয়ার হওয়ার আগ্রহ খুব বেশি, অথচ প্রকৃতি-পড়ুয়ার পাঠাশালায় (বিজ্ঞান-পরিষদ এর সত্যেন্দ্র ভবন, প্রতি ইংরাজি মাসের দ্বিতীয় শনিবার, বিকেল চারটেয়) হাজির হতে পারছে না, এই পাতার 'পাঠ' নিয়ে নিজেরাই নিজেকে ধীরে ধীরে পুরোপুরি প্রকৃতি-পড়ুয়া করে তুলতে পারবে।" এমন ঘোষণা দিয়েই শুরু হয়েছিল প্রকৃতি পড়ুয়ার পাঠশালা একদা 'জ্ঞান ও বিজ্ঞান' পত্রিকায়। সে লেখা থেমে গেলেও এসব লেখার আবেদন বুঝি ফুরোবার নয়। আবহমান কাল ধরে তিনি যে পাঠশালার ছাত্র, সেই প্রকৃতি আজও তাঁকে শিখিয়ে চলেছে। এই মাটি, পাহাড়, জল, গাছ, পোকা, হাওয়া, রোদ, পশু-পাখিরা, এদের রূপ গুণ, আচার আচরণ দেখে দেখে প্রকৃতি সম্পর্কে নিজের মতো একটা ধারণা করে নেওয়া সকলেরই প্রয়োজন। সেই তাগিদেই প্রায় পঞ্চাশ বছর হল সন্দেশ পত্রিকায় বেরিয়েছে প্রকৃতি পড়ুয়ার দপ্তর। আমাদের বাড়ির চারপাশের আরশিনগরের কথা। পাখি, পোকা, প্রজাপতি গাছপালা আর জীবজন্তুর বিচিত্র জগতের কথা। জায়গা তৈরি করতে চেয়েছেন শিশুর মনে এই প্রতিবেশীদের জন্যে। বার বার মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রকৃতির উপর এই যথেচ্ছাচারের ফল ভাল না হবার কথা।
এই বই আসলে আগামী পৃথিবীর জন্য। কেমন করে শহরে বসেও প্রকৃতিকে চিনবে ছোটরা? যা কিছু দেখলে আমাদের ভালবাসা মায়া বাড়বে প্রকৃতির জন্যে। এই বই সেই জাদু আয়না। এতে আছে নিজের জন্য কীভাবে বানাবে নোটখাতা, কীভাবে পড়বে ছুটির পড়া। লেখা রইল পৃথিবী নামের এই আশ্চর্য সবুজ গ্রহটাকে বাঁচাবার জন্যে আগাম সতর্কতা। সেই লড়াইয়ের হাতিয়ার এই বই, সন্তানের হাতে তুলে দেওয়ার, প্রকৃতি চেনার, প্রকৃতিকে ভালবাসবার এই সহজপাঠ। আবহমান কালের জন্য সাজানো রইল এক পাঠশালা-প্রকৃতি পড়ুয়ার দপ্তর।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি