উতল মেঘের পাখিরা
মৃণাল শতপথী
প্রবাল চন্দ্র বড়াল চিত্রিত
এ শহর ফুঁড়ে রেললাইন, দীর্ঘ প্লাটফর্ম, ট্র্যাকে চাঁদ পড়ে থাকে। ভাঙা ওয়াগন, কাটা বগির কঙ্কাল, ঝোপে ঢাকা পরিত্যক্ত রেলব্রিজ। এ শহরে কুলিগাড়ি, তাতে চড়ে ওই চলে যায় রেলমজুরদের গান।
এ শহর জুড়ে হতচ্ছিন্ন রেল-কোয়ার্টারের অনিঃশেষ সারি, মাথায় বাঁকানো নলের চিমনি, টিভির পাঁজরা-সার অ্যান্টেনা, লাল ইটের বাংলো, ছাতিম ঝরে পড়ে অকাতর।
এ শহর কুন্তলার, তার খাঁচায় বন্দী টিয়েপাখি, চিরকুট, একই শহরের এপার ওপার চিঠি চালাচালি, পোস্টাপিসের লাল ডাব্বা, প্রাচীন চার্চ-বাড়ির অসহায় যিশু।
এ শহর ক্ষ্যাপাটে কবির দেহপসারিনী, যার কবিতায় ফুটে থাকে রক্তচাঁদ। এ শহর লোকাল কাগজের, তার স্বপ্ন। এ শহর আশাভঙ্গের, ধান্দাবাজির, কুশ্রীতার, ধুলোমলিন সময়ের ক্ষয়।
এ শহর নব্বই দশকের, এ শহরের উপন্যাস মহাকাব্যিক নয়, নয় নব্য কথনের উৎসার। এ কেবলই সরল কথায় সহজ একটি ভালবাসার গল্প বলতে চায়, তার আগুনের, অনিবার জলের। এ শহরের মতোই যে উপন্যাসের সমগ্র শরীর ঢেকে থাকে অনন্তলতায়।
এ উপন্যাস অতল মেঘের, যেখানে দিকচক্রবালে উড়ে যায় আমাদের বিস্মৃত পাখিরা। এই উপন্যাসে তারই চারণ-গান।
লেখক পরিচিতি :
জন্ম ১৯৮১ সালে, ৩ মার্চ। স্কুলজীবনে সহপাঠীদের উৎসাহে লেখালেখি। প্রথম প্রকাশিত রচনা স্কুল ম্যাগাজিনে। প্রথম প্রকাশিত গল্প 'পাখি' (২০০১)। দুটি গল্পগ্রন্থ, 'কোথাও বৃষ্টি হয়ে গেছে' (২০০৯) ও 'বিরল পাতার গাছ' (২০২০)। নানান ছোট, বড় পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি। প্রতিশ্রুতিমান গল্পকার হিসেবে পেয়েছেন 'নারায়ণ চৌবে স্মৃতি পুরস্কার'।
বই আকারে এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি