চন্দ্রধর চরিতকথা
ভাস্কর সেনগুপ্ত
বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্য মনসামঙ্গল। সেই কাব্যের অন্যতম প্রধান চরিত্র চাঁদ সওদাগর, যিনি তাঁর পুরুষাকার দিয়ে সাপের দেবী মনসার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। মধ্যযুগের কাব্যগুলিতে যখন মানুষ দেবতার পায়ে নিজেদের সমর্পন করেছিল, সেখানে চাঁদ ছিলেন এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। মানুষ এবং দেবতার এই দ্বৈরথই 'চন্দ্রধর চরিতকথা' নাটকের উপজীব্য। এটি একটি প্রতিবাদের নাটক। পালাধর্মী এই নাটকে মানুষের জয়গান বিবৃত হয়েছে। নাট্যকার বিশ্বাস করেন যদি মানুষ একজোট হয়ে কোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হন, তাহলে জয় অবশ্যম্ভাবী। হয়তো সাময়িক পিছু হটতে হতে পারে, কিন্তু সেখানেই বপন করা থাকে ভবিষ্যতের জয়ের বীজ। চন্দ্রধর বা চাঁদ সওদাগর নিজে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি সহ্য করে সকলের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন যে প্রশাসনের প্রধান হয়ে নিজের ইচ্ছা অন্যের ওপর চাপিয়ে তাঁদের ক্ষতি করা নয়, নীলকন্ঠের মতো সব বিষ নিজে ধারণ করে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করাই প্রশাসকের কর্তব্য। এখানেই এই নাটকের সার্থকতা।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি