মেয়েদের পুরুষকথা
চন্দ্রা মুখোপাধ্যায়
প্রছদ : রাতুল চন্দ রায়
'ঘুমপাড়ানি গান থেকে বিয়ের আসর। অথবা নিছক কথার ছলেই গেয়ে ওঠা দু’কলি থেকে শ্রমের কষ্ট লাঘবের জন্য, গেরস্থালির একঘেয়েমি কাটানোর জন্য যুগ যুগ ধরে গান বাঁধেন মেয়েরা। তাঁদের বেশির ভাগেরই পরিচয় অজ্ঞাত। কিন্তু তার পরেও যে সব গান আজও গাওয়া হয়, পজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলে মৌখিক পরম্পরা। আবার তাতে নতুন গান সংযোজিতও হয়। মেয়েরা গান বাঁধেন জগতের প্রায় সব কিছু নিয়েই। তার মধ্যে একটা বড় জায়গা অধিকার করে রয়েছে ‘পুরুষ’। বাবা, কাকা, স্বামী, শ্বশুরের সমান্তরালে রয়েছে পরিবারের বাইরের পরিসর। সেখানে দারোগা-পুলিশ থেকে ডাক্তার-বদ্যি, চোর ডাকাত এমনকি পাগল-বাউন্ডুলেরাও বাদ পড়েনি। এই সব গানে কখনও রয়েছে অপ্রাপ্তির বেদনা, কখনও আবার ব্যঙ্গ বা নিছক কৌতুকের অম্ল-কষায় স্বাদ। বাংলার মেয়েদের মৌখিক গীতি-ঐতিহ্যকে বিষয়ভিত্তিক পর্বে ভাগ করে এই গ্রন্থে বিশ্লেষণ করেছেন লেখক। এই বিশদ অনুসন্ধান প্রমাণ করে যে, মেয়েরা কোনও দিনই ‘পিঞ্জরের শুকপাখি’ ছিলেন না। পুরুষ পৃথিবীর নানা অনাচার, বৈষম্য তাঁদের যেমন গান বাঁধতে প্রাণীত করেছে, তেমনই প্রেমে-বিরহে, সাংসারিকতার খুঁটিনাটিতেও তাঁরা গানকে বেছে নিয়েছেন বেঁচে থাকার অন্যতম অবলম্বন হিসেবে। বাংলার মেয়েদের গানে পুরুষকথাকে খুঁজে আনতে যে শ্রম লেখক করেছেন, তা সত্যিই বিরল কাজ।'
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি