এক আশ্চর্য ও অভূতপূর্ব পাঠ-আস্বাদনের সাপেক্ষে সাজিয়ে-দেওয়া এই টুকরো-টাকরা ক্ষুদ্র-গল্পগুলি। তাই চেনা হয়েও চিরঅচেনার ইঙ্গিত নিয়ে ঝলকে ওঠে বোধে, মননের গভীরে। পাঠকের জীবন-ভ্রমণও হয়ত এখান থেকেই শুরু হয়ে যায়!
ফারসি শব্দ ‘দাস্তান’-এর অর্থ যদি হয়, সাজানো-গোছানো মুখে-মুখে-বলা প্রচলিত গালগপ্পো- বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ কথাশিল্পী রোমেল রহমানের এই ‘দাস্তান’ বা ‘গল্পমালা’ তা হলে বাইরে-ওপরে অলংকৃত-সজ্জিত হয়েও নিছকই আবরণমাত্র- ভেতরে-ভেতরে আখ্যানধর্মের যাবতীয় রীতিনীতি ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে এই বইতে। রূপকাশ্রিত এই একগুচ্ছ অণুগল্পের মূল চরিত্র সেইসব সাবঅল্টার্ন-মানুষেরা যারা জিভ দিয়ে ধূলোমাটি চেটে প্রখর জীবনসংগ্রামে নিজেদের টিকিয়ে রেখেছে; যারা হারতে-হারতে ঘুরে দাঁড়ায় আবার কখনও লাট্রর মতো ঘুরিয়ে দেষ প্রচলিত মূল্যবোধ-কেও। এইসব চূর্ণ-কাহিনির প্রোটাগনিস্ট তাই ব্যাঙ, চোর, দারোগা, বোয়ালমাছ, গাধা ও শুঁড়িখানায় হত্যে-দেওয়া অসংখ্য সাধারণ জীবন- চোখের সামনেই ছিল, অথচ চেয়ে দেখিনি যাদের। নিতান্ত সাদামাটা হয়েও অসাধারণত্বের প্রাণভোমরা গুনগুন করছে সেসব আত্মার অন্তরে।
এক আশ্চর্য ও অভূতপূর্ব পাঠ-আস্বাদনের সাপেক্ষে সাজিয়ে-দেওয়া এই টুকরো-টাকরা ক্ষুদ্র-গল্পগুলি তাই চেনা হয়েও চিরঅচেনার ইঙ্গিত নিয়ে ঝলকে ওঠে বোরে মননের গভীরে। পাঠকের জীবন-ভ্রমণও হয়ত এখান থেকেই শুরু হয়ে যায়।