বাসুদেব কৃষ্ণ
অলি সেন
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মহাকাব্যগুলির মধ্যে মহাভারত অন্যতম । কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসের রসত্তীর্ণ সুসংহত এই কাব্যটির একটি বিশেষ চরিত্র কৃষ্ণ, যিনি এই মহাকাব্যের সূত্রধরও বটে। মূল মহাকাব্যে তিনি
পান্ডবদের সখা, অর্জুনের পরম সুহৃদ ও কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তাঁর সারথি। তিনি দ্বারকার অন্যতম সংঘপ্রধান ও যদুবংশের বৃষ্ণিসিংহ।
বিদুরের মতো স্থিতপ্রজ্ঞ রাজনীতিবিদ, বাসুদেবের সাহচর্যে নিশ্চিন্ত বোধ করতেন। কর্ণের মতন প্রখর অভিমানী চরিত্রও কৃষ্ণ সান্নিধ্যে শান্ত। মোটকথা সমগ্র মহাকাব্যে কৃষ্ণ এমনই একটা চরিত্র যিনি সবার থেকে আলাদা। অসম্ভব তীক্ষ্মধী এবং হয়ত অনেকটা রহস্যময়।বস্তুত তাঁর জন্মমুহূর্ত বা তারও আগে থেকে অনেক রহস্য,অনেক প্রশ্ন উঠে আসে যার উত্তর সবসময় খুব স্পষ্ট নয়। মহাভারত ছাড়াও ‘বিষ্ণুপুরাণ’, ‘ভাগবত’, ‘হরিবংশ’ বা
‘ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ’এ পাওয়া কৃষ্ণজীবনের টুকরোগুলোকে মেলালে তাঁর একটা পূর্ণাঙ্গ ছবি হয়ত পাওয়া যায, তবুও অনেক প্রশ্ন থেকেও যায়। এতজন যদুমুখ্যের মধ্যে কংস বসুদেবকেই তাঁর প্রধানতম শত্রু মনে করেছিলেন কেন? সেকি শুধুই অস্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য ,না কী এর পিছনে অন্য কোন রাজনৈতিক কারণ ছিল?
বসুদেবের সঙ্গে নন্দ গোপের নিবিড় সখ্যও বেশ রহস্যময়। একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে আভীরপল্লী প্রধানের এতটা ঘনিষ্ঠতা ঠিক স্বাভাবিক নয়। কৃষ্ণ কি সত্যিই দেবতা ছিলেন , না কি প্রচন্ড মেধা আর শক্তির আধারে অসাধারণ এক নিঃসঙ্গ মানুষ!