ভেনিসে মৃত্যু
টোমাস মান
জার্মান ভাষা থেকে অনুবাদ : দেবব্রত চক্রবর্তী
মিউনিখবাসী সাহিত্যিক গুস্তাফ ফন আশেনবানের বয়স পঞ্চাশ বছর, ক্রমাগত কাজের চাপ থেকে মুক্তি পেতে তিনি ভেনিসের সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে এসেছেন। একই হোটেলে উঠেছে একটি পোলিশ পরিবার, তাদের মধ্যে চোদ্দ বছরের একটি বাদক তাদৎসিও ও সেইসঙ্গে ভ্রমণার্থী। তার অপূর্ব দেহকান্তি যেন গ্রীক ভাস্কর্যের এক মূর্ত রূপ, আশেনবান মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গেলেন। তাঁর মধ্যে অসম্ভব একটা যন্ত্রণা ও ব্যাকুলতা কাজ করতে সাগল। সৌন্দর্যচেতনায় আবুল হয়ে তিনি সারাক্ষণ তাকে অনুসরণ করতে লাগলেন। ইতিমধ্যে ভেনিসে কলেরা দেখা দিয়েছে। বিদেশীদের কাছে কর্তৃপক্ষ সেটা গোগন রাখবার আহাস চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত সুবিধা করতে পারেনি। সমুদ্রসৈকতে এই বালকের সৌন্দর্যদর্শন করতে করতেই আশেনবাসের মৃত্যু হয়েছে।
নাগরিক ও শিল্পী, এই দুই সত্তার অপূর্ণ সমন্বয়ে চিত্রিত গুস্তাফ অশেনবাব আসলে সেইসমস্ত কবিদের প্রতিনিধি খাঁরা নিঃশেষ হয়ে না যাওয়া পর্যন্ত হাল ছাড়েন না। যাঁরা ভারগ্রস্ত, ক্রমাগত আঘাতে জর্জরিত হয়েও যাঁরা সদর্পে মাথা তুলে লড়িয়ে থাকতে পারেন, কীর্তিরচনায় নীতিবোধ খাঁদের প্রধান অবলম্বন, বৃদ্ধি যাঁদের ব্যহত হচ্ছে, উপায় যাঁদের সীমিত অথচ নিছক ইচ্ছাশক্তির মাহাতোই যাঁরা একসময় সীমিত উপায় তাকে নাগিয়ে মানুষের মনে মহতের প্রতীতি জন্মান, আশেনবায তাঁদেরই প্রতিনিধি। ১৯১১-১২ সনে লেখা ও ১৯১০- তে প্রকাশিত এই 'নভেলা'-টিতে টোমাস মান তাঁর প্রাটোনিক সৌন্দর্যচেতনা, মিখ, ভাবনার মিত, মনোবৈজ্ঞানিক চালচিত্র ও কতকগুলি বাস্তব ঘটনার সুসমঞ্জস অন্বয়ে যে নিরীক্ষামূলক প্রবণতার সৃষ্টি করেছেন তাতে অনায়াসেই শিল্পী ও বুদ্ধিদীপ্ত মানুষের সমস্যার গভীরে প্রবেশ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়েছে।