স্বর্ণকুমারী দেবীর রচনা-সংকলন
স্বর্ণকুমারী দেবী
দিগন্ত প্রসারিত প্রান্তরমধ্য দিয়া বালুকাময় বেলাভূমি চুম্বন করিয়া সুখময়ী নদী বক্র ভাবে বহিয়া যাইতেছে। তীরে লতাচ্ছাদিত একখানি কুটীর, কুটীরের দুই পার্শ্বে মালতী-লতাবেষ্টিত দুইটি ঝাউ গাছ, তাহার তলায় দুইজনে বসিয়া গল্প করিতেছিলেন। আকাশে চাঁদ উঠিয়াছে; চতুর্থীর চাঁদ, নিরাশ হৃদয়ে ক্ষীণ আশার মত গগন প্রাঙ্গণে একটি ধারে মলিন জ্যোৎস্না বিকীর্ণ করিয়াও যেন করিতে পারিতেছে না; চঞ্চল নদীবক্ষ ঈষৎ উজ্জ্বল করিয়া, ফুটন্ত মালতী ফুলগুলি আরো ফুটাইয়া মালতীর মুখে সেই চাঁদ পড়িয়াছে। মালতী চতুৰ্দ্দশ বর্ষীয়া বালিকা, মালতী জ্যোৎস্নাময়ী প্রতিমা-মালতী মৃদুহাস্যময়ী কুসুমকলিকা। মালতী কথা কহিতে কহিতে একবার চাঁদের পানে চাহিয়া দেখিল, একবার জ্যোৎস্না-ধৌত সুখময়ীর তরঙ্গ-উচ্ছ্বাস দেখিল, একবার সন্ধ্যাসমীর আন্দোলিত মালতীলতা হইতে কতকগুলি ফুল লইয়া দেখিতে দেখিতে হাসিয়া বলিল, "দাদা আর দশ দিন আছে মাত্র, তবুও আমার মনে হচ্ছে দিন বুঝি আর ফুরাবে না।"
যুবকের হর্ষোৎফুল্ল মুখ এই কথায় আরো প্রফুল্ল হইল, ঈষৎ রক্তিম আভায় রঞ্জিত হইল, যুবক একটু হাসিতেই তাহার কথায় উত্তর করিলেন। মালতী গোলাপকলির মত রাঙা মুখ খানি নাড়িয়া হাসিয়া হাসিয়া আবার বলিল, "দাদা, আমরা দু'জনে চিরকাল এই কুটারটিতে আছি, শোভনা এলে আমাদের একটি লোক বাড়বে, তুমি যখন দিনের বেলা কাজে যাবে, আমাকে আর একলা থাকতে হবে না।" যুবক হাসিয়া বলিলেন, "সেই জন্যই মালতী তোর বুঝি এত আহ্লাদ?”
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি