রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্যে রূপান্তর
জয়িতা বন্দ্যোপাধ্যায়
নৃত্যনাট্য হল এমন এক বিশেষ নাট্যরূপ, যেখানে সংলাপের পরিবর্তে নৃত্যের মুদ্রা, অঙ্গভঙ্গি, গীত এবং বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয়ে একটি সম্পূর্ণ গল্প বা আখ্যান ফুটিয়ে তোলা হয় দর্শকদের সামনে। শিল্পীরা নাচ এবং আবেগের মাধ্যমে সেই চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তুলে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর সৃষ্টির বহুমুখী ধারাকে নানা রূপে রূপান্তর করেছেন। জীবন-সায়াহ্নে পৌঁছে নৃত্যনাট্য ধারায় রূপান্তর এবং বিশদভাবে দাগ কাটে। কখনও গল্প ভেঙে পেয়েছে নৃত্যনাট্যের রূপ, কখনও বা কবিতা বা কাব্যনাটকে সাজিয়ে তুলেছেন নৃত্যনাট্যের রূপে সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন, পরিবর্তন, পরিবর্ধন ইত্যাদির মাধ্যমে। আবার কখনও একটি গোটা গীতিনাট্যই হয়ে উঠেছে নৃত্যনাট্য। এমনকি প্রতিবারের অভিনয়কালে সেইসব নৃত্যনাট্যও ভিন্নরূপে দর্শকের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে।
এই গ্রন্থে আলোচিত হয়েছে এমনই অনেক অনালোচিত কাহিনীর এক অজানা তথ্যসম্ভার।
নৃত্যনাট্য রচনার ক্রম অনুসারে অধ্যায় সাজানো হয়েছে। যেমন— শাপমোচন (প্রথম প্রকাশ ১৯৩১); তাসের দেশ (প্রথম প্রকাশ ১৯৩৩); চিত্রাঙ্গদা (প্রথম প্রকাশ ১৯৩৬); চণ্ডালিকা (প্রথম প্রকাশ ১৯৩৮); শ্যামা (প্রথম প্রকাশ ১৯৩৯): মায়ার খেলা নৃত্যনাট্য (প্রথম প্রকাশ ১৯৪০)। গানের পরিবর্তন করতে অনেক সময় শব্দ বা পংক্তি কেটে দিয়েছেন, নতুন পংক্তি বা শব্দ জুড়েছেন, সেইভাবেই গানগুলিকে তুলে দেওয়া হয়েছে।
জয়িতা বন্দ্যোপাধ্যায় এঁর নিরলস পরিশ্রম এবং দীর্ঘ গবেষণার ফলশ্রুতি 'রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্যে রূপান্তর' বইটি।