পটুয়া নারী ও পটের গান
জয়ন্তী মণ্ডল
সংস্কৃত 'পট'(কাপড়) শব্দ থেকে এই নামের উৎপত্তি। এই শিল্পের শিল্পীদের বলা হয় 'পটুয়া', যারা ছবি আঁকার পাশাপাশি গানের মাধ্যমে (পটের গান) সেই কাহিনি বর্ণনা করেন। কাজেই বইটির নামকরণ প্রাসঙ্গিকতার দাবি রাখে।
পটচিত্র হল বাংলার অন্যতম প্রাচীন লোকশিল্প, যেখানে কাপড়ের বা কাগজের ওপর পৌরাণিক, লৌকিক বা সামাজিক কাহিনি চিত্রিত করা হয়।
পটচিত্র শুধু একটি চিত্রকর্ম নয়, এটি বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতি ও জীবনধারার এক অনন্য মিশ্রণ।
পৌরাণিক যুগ থেকেই পটচিত্র চলে আসছে। হর্ষবর্ধনের সময় বাংলায় পটচিত্র দেখিয়ে গান গাওয়ার রীতি প্রচলিত দিল। চৌকা পটচিত্র ছিল কালীঘাট কেন্দ্রিক। আর বাংলার বিভিন্ন জায়গায় দীঘল পট দেখানো হত বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে ঘুরে।
স্বাধীনতার পর ২০ এর দশকে সরকারি উদ্যোগে কর্মশালা করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে পটুয়াদের। পটচিত্রের রীতি বদলেছে। বদলেছে পটচিত্র শিল্পীরাও। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও তুলি ধরেছে। গান গেয়েছে, গান গেয়ে পটচিত্র দেখানো শুরু করেছে। পটচিত্রকে কেন্দ্র করে গানের মধ্যেই পটুয়ারা নিজেদের আবদ্ধ রাখেনি। ঘট, ফুলদানি, গেঞ্জি, জামা, কাপড়, দ্বাতা, বাড়ির ডেকোরেশন, কাঠের সোফা, টেবিল প্রভৃতি জায়গায় যেমন তারা পটচিত্র দিয়ে রঙিন করছে, তেমনি পটচিত্র শিল্পীদের গান নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। গত এক দশক ধরে পটচিত্রের আঙিনা আরও উদার এবং প্রশস্ত হয়েছে। বাংলা জুড়ে বহু মেলায় তাদের সম্ভার সাজিয়ে বিক্রি হচ্ছে। ফলে তাদের আর্থিক সঙ্গতিও বেড়েছে অনেক।
জয়ন্তী মণ্ডলের 'পটুয়া নারী ও পটের গান' বইটিতে বাংলার পটচিত্র এবং পটুয়া শিল্পীদের শিল্পচর্চা এবং জীবনযাপন প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি