নাগা সাধনা ও নারী নাগাদের কথা
সোমব্রত সরকার
লোকচক্ষুর বাইরে থাকে নাগাদের আশ্রম। হিমালয়ের গুহায় গুহায় দীর্ঘায়ু নাগাদের দর্শন মেলে। নৈমিষারণ্যের কাশীকুণ্ডে প্রাচীন নাগা আশ্রমে জনা কয়েক সিদ্ধা নারী নাগারা আত্মগোপন করে আছেন। কৌমার্য রক্ষা করে সন্ন্যাসব্রতের পথে তপস্যার রাস্তাতে থাকেন যে সমস্ত উচ্চকোটির নাগা সন্ন্যাসী ও নারী নাগারা, তাঁদের দেখা পাওয়া চট করে সম্ভব নয়। অনেক কসরত করে এঁদের আখড়া -আশ্রমে পৌঁছতে হয়। নাগা বলতে অনেকেই বোঝেন কোমরে মোটা শেকল, লোহার আংটায় লিঙ্গ বেঁধে রাখা দীর্ঘকায় সাধু; হাতে চিমটা ও ত্রিশূল। মাথাতে বড় বড় জটাকে কুণ্ডলী করে জড়ানো। কিন্তু নাগা মানেই বিবস্ত্র সাধুর মেলা নয়। কাশীর মহানির্বাণী মঠের ওঁরা সব গেরুয়াধারী নাগা সন্ন্যাসী। তুরি, ভেরি, শিঙা বাজিয়ে সন্ধ্যাবেলা ত্রিশূল ও বিভূতিনারায়ণেরই আরতি চলে নাগাদের আখড়ায়। নাগাদের ভেতর যাঁরা দত্তাত্রেয়পন্থী তাঁরা দত্তাত্রেয় ভগবানের স্তব পাঠ করেন। বৈখানস নাগা মাতাজিরা অদ্ভুত ধরনের পোশাক পরেন। গাছের ছাল দিয়ে বানানো কৌপন আর বক্ষদেশ ঢাকা ছালেরই বক্ষবন্ধনীতে। প্রাচীন মল্লযুদ্ধের আখড়াগুলোর অনুপ্রেরণা রয়েছে নাগা সন্ন্যাসীদের আখড়া গড়ার পেছনে। শৈব ও রুদ্রপন্থী নাগা সন্ন্যাসীরা সম্প্রদায় বলতে আখড়াকেই বোঝেন। বৈষ্ণব নাগারা সকলেই হঠযোগি। নাগাদের মন্ত্রদীক্ষার পর ব্রহ্মচর্য ও সাবিত্রী জপ সম্পন্ন হলে গুরুদেব সন্ন্যাস দেন। শুরু হয় সাধনার গুপ্তক্রিয়াদি। এই বইতে রয়েছে ভারতবর্ষের নাগা সন্ন্যাসী ও নারী নাগাদের আখড়াবাস, জীবনপ্রবাহ, সাধনা, চিকিৎসা, যৌনতা, অতীন্দ্রিয় অনুভূতির অত্যাশ্চর্য সব কথামালা। সংযুক্ত করা হয়েছে নাগা সাধনকোষ, চিঠিপত্র, সাক্ষাৎকার, নাগাদের সিদ্ধমন্ত্র ও উপদেশ। সব মিলিয়ে এই বই দীর্ঘ কুড়ি বছরের গবেষণার ফসল।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি