দেশভাগ দেশভিখারি
মধুময় পাল
ধর্মীয় দ্বিজাতিতত্ত্বের মোক্ষম কোপটা পড়ল কলকাতায়, ১৬ আগস্ট ১৯৪৬।
গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং। দাঙ্গার আগুনে পুড়ল বাঙালির আবহমান সমাজজীবন। বাংলায় তখন মুসলিম লিগের সরকার। দু মাসের মধ্যে দাউদাউ জ্বলল প্রত্যন্ত জেলা নোয়াখালি। ধর্মদাগি রাজনীতির ল্যাবোরেটরিতে তৈরি দৈত্যদের তাণ্ডব। গান্ধি ছুটলেন অভয়মন্ত্র আর সম্প্রীতির বাণী নিয়ে। প্রায় চারমাস গ্রামে গ্রামান্তরে খালিপায়ে হাঁটলেন। এরই মধ্যে নেহরু পৌঁছালেন নোয়াখালি। সেবা নয়, বাপুজিকে জানালেন দেশভাগের বিকল্প নেই। গান্ধি তখনও হিন্দু-মুসলমানের যৌথযাপন ও মিলিত সাধনায় বিশ্বাসী। দেশভাগ হল। বিষণ্ণ গান্ধি দেখলেন ঘোর অন্ধকার। জিন্নাও কি বিষণ্ণ? একক লড়াইয়ে পাকিস্তান হাসিল করা সত্ত্বেও? দুজনই তখন নিঃসঙ্গ। এদিকে ধর্মীয় হানাহানি ডেকে আনল বাস্তুত্যাগ। পূর্ববাংলার দেশভিখারি হিন্দুদের স্রোত আছড়ে পড়তে থাকে পূর্বভারতে। এখানেও বঞ্চনা অবিচার। এই দেশভিখারিদের সীমাহীন যন্ত্রণা ও যুদ্ধের কথা বাংলা ভাষায় বেশি নেই। স্মরণে আখ্যানে ব্যক্তিগত যাপনে ছড়িয়ে থাকা কথার কিছু ধরা থাকল দেশভাগের পৃষ্ঠপটে। পরিশিষ্টে রইল কিছু দলিল, যা বাংলা ও বাঙালির জটিল সময়টাকে বুঝতে সাহায্য করবে। বোঝা যাবে ধর্মীয় সংকীর্ণতা এখনও কীভাবে সংখ্যার দাপটে গণতন্ত্রকে সভ্যতাকে বিপন্ন করে।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি