ভাগ হয়নি কো ভাগীরথী
দেবারতি মুখোপাধ্যায়
প্রচ্ছদ : শিল্পী স্বর্ণাভ বেরা
বিস্মৃত বাঙালি মহিলা স্পাই ভাগীরথী সাহা-র রুদ্ধশ্বাস আখ্যান 'ভাগ হয়নি কো ভাগীরথী'। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ থেকে ১৯০০ সালের পরাধীন ভারতের চারটি ভয়ংকর সত্যকাহিনী।
"পাকসেনাদের হাতে ধরা পড়েছে বিধবা তরুণী ভাগীরথী সাহা। সে নাকি লুকিয়ে ডাবল এজেন্টের কাজ করছিল, পাকসেনাদের খবর পাচার করছিল মুক্তিযোদ্ধাদের। ধরার পর তাকে নিয়ে এল পিরোজপুর সামরিক ক্যাম্পে। পাকসেনারা এবার ভাগীরথীর উপর তাদের হিংস্রতার আয়োজন করল। ভিড়ে ভর্তি হাটবারে তাকে শহরের রাস্তায় এনে দাঁড় করানো হল জনবহুল চৌমাথায়। সেখানে প্রকাশ্যে তার কাপড় খুলে ফেলল কয়েকজন খান সেনা। তারপর দু'গাছি দড়ি তার দু'পায়ে বেধে একটি জীপে বেধে জ্যান্ত শহরের রাস্তায় টেনে বেড়াল ওরা মহা উৎসবে। ঘন্টাখানেক রাজপথ পরিক্রমার পর আবার যখন ফিরে এল সেই চৌমাথায় তখনও তার দেহে প্রাণের স্পন্দন রয়েছে। এবার তারা তার দুটি পা দু'টি জীপের সাথে বেঁধে নিল এবং জীপ দুটিকে চালিয়ে দিল বিপরীত দিকে। ভাগীরথী দু'ভাগ হয়ে গেল। সেই দু'ভাগ দু'জীপে আবার শহর পরিক্রমা শেষ করে জল্লাদ খানরা আবার ফিরে এল সেই চৌমাথায় এবং এখানেই ফেলে রেখে গেল সেই বিকৃত মাংসগুলো। একদিন-দুদিন করে মাংসগুলো ঐ রাস্তার সাথেই একাকার হয়ে গেল একসময়। বাংলা মায়ের ভাগীরথী আবার এমনিভাবে মিশে গেল বাংলার ধুলিকণার সাথে।" - দৈনিক আজাদ পত্রিকা।
................ আচ্ছা, ভাগীরথী তো দু-ভাগ হল, আর তার ছোট ছেলেদুটো? তাদের কী হল?
না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সেভাবে মনে রাখেনি এই ভাগীরথী সাহাকে। হতদরিদ্র বাঙালি বাড়ির বিধবা ভাগীরথী সাহা কোনো এলিট ক্লাসের কাগুজে চরিত্র ছিলেন না। তিনি একজন মা, একজন গুপ্তচর, একজন শহীদ!
তাঁর চিরে যাওয়া শরীরের রক্তে এই বাংলারই রাজপথে একদিন আলপনা আঁকা হয়েছিল। আর আজ তাঁর স্মৃতিচিহ্ন পড়ে আছে এক নির্জন কোণায়। অবহেলায়। এমনকি তাঁর একখানি ছবিও নেই কোথাও!
আর আজ সেই বাংলাদেশও বড় অপরিচিত!
কিন্তু বাঙালি হিসেবে দায় কি আমাদের সত্যিই নেই? কারণ খুনিরা হারিয়ে যেতে পারে, কিন্তু যাদের জন্য তাকে খুন হতে হয়েছিল, তাদের ভুলে যাওয়া সবচেয়ে বড় অপরাধ। আমাদের এই উপমহাদেশের বুকে এক নারীর প্রতি যে নারকীয় হত্যালীলা সংঘটিত হয়েছে একসময়, তাকে উপেক্ষা করা কি নিরপেক্ষতা?
......... সেই হারিয়ে যাওয়া মহিলা স্পাই ভাগীরথী সাহার আখ্যান "ভাগ হয়নি কো ভাগীরথী!"
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি