বাংলার পুজো-পার্বণ ও মেলা
শীর্ষেন্দু গায়েন
"কথায় বলে বাঙালির 'বারো মাসে তের পার্বণ'। বাঙালি সমাজের সাংস্কৃতিক প্রথা, আচার-অনুষ্ঠান, ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে এ কথার সত্যতা পাওয়া যায়। বছরের বিভিন্ন সময়ে বাংলার নানা প্রান্তে অসংখ্য 'মেলা' হয়ে আসছে দীর্ঘদিন। কবির কথায়, "বাংলায় এমন কোনো গ্রাম নেই, যেখানে মেলা হয় না।” 'মেলা' লোক-ঐতিহ্যের অন্যতম একটি অনুষঙ্গ।
বাংলায় প্রথম কবে, কোথায় মেলার প্রচলন হয়েছিল-তা বলা অসম্ভব। তবে মেলা যে আবহমান বাংলার এক প্রাচীন ঐতিহ্য-এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সম্ভবত, 'গ্রামীণ হাট'-ই মেলার আদিরূপ। অতীতে মেলার আয়োজন এবং পৃষ্ঠপোষকতা করতেন রাজা-জমিদারেরা। সাধারণত ধর্মীয় উৎসব ঘিরেই মেলা বসত সে সময়। এখন শুধু ধর্মীয় উৎসবই নয়, মেলা বসে নানান সামাজিক বা লৌকিক আচারের অঙ্গ হিসাবে। প্রতিটি মেলার চরিত্র-ও আলাদা। বলার অপেক্ষা রাখে না, লোকসংস্কৃতির সঙ্গে মেলার রয়েছে নিবিড় যোগ। মেলায় ফুটে ওঠে সব ধর্মের মানুষের সংস্কৃতি।
গ্রাম্য মেলা, গ্রাম-বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, "মেলা ভারতের পল্লীর সর্বজনীন উৎসব। কোনো উৎসব প্রাঙ্গণের মুক্ত অঙ্গনে সকল গ্রামবাসীর মনের উচ্ছ্বসিত মিলনক্ষেত্র হইল মেলা।” মেলা প্রকৃত অর্থেই বহু মানুষের মিলন ক্ষেত্র। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ মিলিত হয় মেলায়। বেচা-কেনা চলে বহু ধরনের জিনিসপত্রের। বিভিন্ন রকম মানুষের সংস্পর্শে মেলায় যেমন অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি হয়, তেমনি রচিত হয় ঐক্য ও প্রীতির মেলবন্ধন।
বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে যে অসংখ্য পুজো-পার্বণ ও মেলা হয়, তার বিশদ বিবরণ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরাই এই গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্য। লোক উৎসব শুধুমাত্র স্থানীয় সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে না, অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আদান-প্রদান এবং সংস্কৃতির বিনিময়-ও ঘটায়। আমার মনে হয়, এই তথ্যানুসন্ধানের মাধ্যমে বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।
সুবিশাল এই ক্ষেত্রের খুব সামান্য অংশই ক্ষুদ্র পরিসরে এখানে উপস্থাপিত করলাম। এর কিছু অংশ-ও যদি পাঠকের মনে স্থায়ী আসন দখল করতে পারে-তাহলেই আমার প্রয়াস সার্থক।"
— শীর্ষেন্দু গায়েন
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি