অসভ্য চোখ
সায়ন্তনী পুততুণ্ড
-----------------------
একজোড়া চোখ!
একজোড়া চোখ নিয়ে এখন তল্লাট সরগরম। শুধু চোখ নয়, রীতিমতো অসভ্য চোখ!
এই তো, কয়েকদিন আগেকার ঘটনা। মিত্তিরবাড়ির মায়াদিদি একেবারে বিদ্যা বালানের মতো লাল গামছা পরে উ-লা-লা, উ-লা-লা করে গান গাইতে গাইতে ছান-টান করছিল। আর বেবো-স্টাইলে হেসে হেসে সাবান মাখছিল। এটাই এখনকার নিয়ম। সাবান মেখে 'কী জিনিস বানিয়েছ গুরু' হতে হলে সাবান কে সাবান নয়, এক টুকরো হৃত্বিক রোশন ভাবতে হবে! অতঃপর সাবানটাকে নিজের গায়ে না ঘষে সাবানের গায়ে লুটোপুটি খেতে হবে। তবেই 'ফস্সা' হওয়া যাবে!
যথারীতি মায়াদিদিও সেটাই করছিল। আর খুঁচখুঁচ করে গান গাইছিল-'তু হ্যায় মেরা ফ্যান্টাসি'। ফ্যান্টাসি সে নিজে, না সাবানটা, না সাবানরূপী হৃত্বিক রোশন তা ভগাই জানে! কিন্তু 'ফ্যান্টাসি'র 'সি'তে গিয়েই সে অসভ্য চোখজোড়াকে 'সি' করে ফেলল, অর্থাৎ দেখে ফেলল। এবং সঙ্গে সঙ্গেই সি শার্প থেকে চড়াৎ করে এক্কেবারে সটান এফ শার্পে হাঁউমাউ! পাড়াসুদ্ধ লোক সেই আর্তচিৎকারে ছুটে এল, রাস্তার শান্তশিষ্ট ল্যাজকাটা কুকুর ভুলো, 'খ্যাঁক' করে চামার দোকানদার ভোলা মুদিকে কামড়ে দিল, দুটো কাক উড়তে উড়তে আচমকাই আছড়ে পড়ল ইলেকট্রিকের তারে! আরও কত কী হল কে জানে! যাই হোক, শেষপর্যন্ত জানা গেল অমন প্রলয়ঙ্কর চিৎকারের কারণ। মায়াদিদি হাঁফাতে হাঁফাতে বলল- 'ওই বাথরুমের জানলা দিয়ে... কেউ উঁকি মারছিল!
...কেউ এদিকেই উঁকি মারছিল...'।
প্রবেশ করুন বা রেজিস্টার করুনআপনার প্রশ্ন পাঠানোর জন্য
কেউ এখনো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি